১) মাঝরাতে পাশে ঘুমিয়ে থাকা রুমমেট ডেকে বলল, ‘কিরে এতো জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছিস কেন?’ অথচ আমি স্বাভাবিক ভাবেই শ্বাস নিচ্ছিলাম। কিছুক্ষন পর আমার খেয়াল হলো আমার রুমমেট তো বিকেলেই বাড়ি চলে গেছে!

২) আমার ফোনে আমার ঘুমন্ত অবস্থার একটি ছবি দেখলাম, অথচ আমি একা থাকি।

৩) ছোটোবোন মাঝরাতে আমাকে ডেকে বলল আমার মা নাকি তাকে হত্যা করতে চায়, মায়ের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করায় মা বলল আমার নাকি কোনো ছোট বোনই নেই।

৪) সন্ধ্যাবেলা আম্মু ডেকে বলল ছাদ থেকে শুকাতে দেওয়া কাপড়গুলো নিয়ে আসতে, আমি সিঁড়ির দিকে পা বাড়াতেই আম্মু পেছন থেকে টেনে ধরে বলল, ‘থাম, ডাকটা আমিও শুনেছি’।

৫) রাত ১২:০৭, হঠাৎই আমার এলার্ম বেজে উঠল। অন্ধকারে কেউ একজন আমার বুকের উপর চেপে বসে তার ধারালো নখ দিয়ে আমার বুকে ছিদ্র করতে লাগল, এমন সময় আমার ঘুম ভেঙে গেল। দেখলাম ঘরিতে ১২:০৬ বাজে, আমার রুমের দরজা খোলার শব্দ শুনতে পেলাম।

৬) ঘুম ভেঙে যাওয়াতে শুনলাম পাশের রুমে আমার নবজাতক বাচ্চাটি হেসে হেসে খেলছে, সাইড চেঞ্জ করে ঘুমাতেই দেখলাম আমার স্ত্রী আমার পাশেই ঘুমিয়ে আছে, অথচ আমাদের ফ্ল্যাটে আমি আর আমার স্ত্রী ছাড়া কেউ থাকেনা।

৭) মধ্যরাতে আমার বাচ্চার কান্না কিছুতেই থামছে না, বিরক্ত হয়ে আমি তার কবরের কাছে গিয়ে তাকে থামতে বললাম কিন্তু সে কিছুতেই থামছিল না।

৮) ছোটবেলা থেকে ঘরে কুকুর বিড়ালের সঙ্গে থাকতে থাকতে ঘুমের মধ্যে দরজায় নখের আচরণের শব্দ শুনে আমার অভ্যাস হয়ে গেছে। কিন্তু এখন যেহেতু আমি একা থাকি, এই শব্দগুলো আমাকে বিচলিত করে।

৯) আমার কাচের জানালার ওপাশ থেকে কেউ একজন নক করছে, কিছুক্ষণ পর আমি উপলব্ধি করলাম শব্দটা আমার ঘরের আয়না থেকে আসছে।

১০) সে আমাকে বলল, সে ঘুমাতে পারছে না। আমি ঠান্ডায় তার গায়ে জড়ানো কাপড় টেনে গায়ে জড়াতে লাগলাম, হঠাৎ খেয়াল করলাম এটা সেই কাপড় যেটা পড়িয়ে তাকে কবর দেওয়া হয়েছিল।

১১) ঘুমানোর সময় নিজের দিকে একটা ক্যামেরা সেট করে ঘুমাও, পরবর্তীতে ক্যামেরার ফুটেছে যা দেখবে তা হয়তো তোমাকে আর ঘুমাতে দেবে না!

১২) প্রচন্ড ঠান্ডা, বাইরে কুয়াশা, গভীর রাত; ডিপ্রেশন নিয়ে শুয়ে কাচের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছি। লক্ষ্য করলাম দূর থেকে কেউ একজন হেটে আমার জানালার কাছে আসছে; কিন্তু কিভাবে! আমার ফ্ল্যাট তো ১৪তম ফ্লোরে।

১৩) পোষা বিড়ালটি কোলে নিলে সে সবসময় আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকত, জানিনা কেন। একটা সময় পরে আমি উপলব্ধি করলাম সে আসলে আমার দিকে নয় বরং আমার ঠিক পিছনে কোনো বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকত।

১৪) ছোট্ট বাচ্চার হাসির আওয়াজ সবচেয়ে মধুর যদি না রাত হয় গভীর আর তুমি ঘরে সম্পূর্ণ একা থাকো!

১৫) একা রুমে দরজা বন্ধ করে বাতি নিভিয়ে কম্পিউটারের সামনে বসে আছি, মাঝে মাঝে কম্পিউটার স্ক্রিনে তাকিয়ে মনে হচ্ছে কেউ একজন আমার পিছনে দাড়িয়ে আছে কিন্তু আমার পিছনে ফিরে দেখার সাহস হচ্ছে না।

১৬) সারাদিন কাজ শেষে বাসায় ফিরছি একা বাসায় আরাম করবো, দরজা খুলে বাতি জ্বালাতে সুইচ স্পর্শ করতে গিয়ে দেখলাম ইতোমধ্যে কারও একটা আঙুল সুইচ স্পর্শ করে আছে।

১৭) আমার নতুন বাসার বাথরুমের দেয়ালে লেখা দেখলাম,
He even rEads over my Letters to make sure i sPelled everything perfectly. although My capitalization isn’t excellent yEt.

১৬) আমি প্রতিদিন রাতে আমার বউ এবং আমার চার বছরের শিশুর কপালে চুম্বন করে ঘুমিয়ে পড়ি, সাথে সাথেই আমার ঘুম ভেঙে যায় আর পাশে বসা নার্স জানায় আমি এতক্ষণ স্বপ্ন দেখছিলাম।

১৭) বাবার গিফ্ট করা লেদারের জ্যাকেটটি পড়লে মনেহয় কেউ আমাকে জড়িয়ে ধরে আছে। বাবা বলেছিলেন এটা আমার মায়ের শেষ স্মৃতি। আমি বাবাকে সেভাবেই রেখেছি যেভাবে বাবা মাকে রেখেছিলেন।

১৮) হাসাপাতালের বেডে রাতে যখনই একা থাকি তারা আসে, আমি জিজ্ঞেস করি তোমরা কারা; ওরা বলে, ‘আমাদেরও ক্যান্সার ছিল!’

নোট: উপরোক্ত গল্পগুলো আপনার মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার উপর ততই বেশি প্রভাব ফেলবে যতটা গল্পের পরিস্থিতির সাথে আপনার পরিস্থিতির সাদৃশ্য থাকবে, এবং যতোটা গল্পগুলোর মানে আপনি বুঝতে সক্ষম হবেন। আবার আপনার পূর্ববর্তী মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা ও ফোবিয়ার উপরও নির্ভর করে- আমাদের সাইকোলজি বড়ই অদ্ভুত!

[ গল্পগুলো বোরড পান্ডা হতে অনুবাদকৃত এবং পরিমার্জিত ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *